1. admin@admin.com : admin :
  2. info@bartabazaronline.com : বার্তা বাজার : বার্তা বাজার
  3. talukdermahabub1984@gmail.com : Mahabub Talukder : Mahabub Talukder
  4. sahonsrabon3@gmail.com : Sahon Srabon : Sahon Srabon
বর্তমানে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা - Barta Bazar Online-বার্তা বাজার অনলাইন
৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ| ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ| গ্রীষ্মকাল| বৃহস্পতিবার| বিকাল ৪:২৮|

বর্তমানে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২, ২০২৪,
  • 168 Time View

সাদিকুন নাহার
ডিপার্টমেন্ট অফ বিজনেস অ্যাডমিনস্ট্রেশন
জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি সারাদেশে বেড়ে গেছে সড়ক দুর্ঘটনা এমন কোনো দিন নেই, যেদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির প্রাণ যাচ্ছে না। এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে চারজন লোক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন বিশ থেকে ত্রিশ জন লোক। সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছেন আমাদের কাছের মানুষ, শিক্ষার্থী, শিশু, বৃদ্ধ, আত্মীয় স্বজন।

সংবাদপত্রের একটি অনিবার্য খবর হচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। বেদনাদায়ক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই দুর্ঘটনা।যার ফলে ঘটে যাচ্ছে অকাল মৃত্যু। শত শত মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন গাড়ির তলায় পিষ্ট হয়ে। কোথাও বাস মোটরসাইকেল, কোথাও বাস ট্রাকের সংঘর্ষে কেড়ে নেয় অমূল্য জীবন। আবার রাস্তা পেরোতে গিয়ে প্রাণ হারায় পথচারী।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কতৃপক্ষের হিসেবে, দেশে যানবাহনের সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ। এর মাঝে চালকের লাইসেন্স আছে ১৮ লাখ। অর্থাৎ বাকি ১৫ লাখ লাইসেন্স বিহীন চালক। আবার যথাযথ পরীক্ষা ছাড়াই শ্রমিক সংগঠনের চাহিদা মেনে লাইসেন্স পেয়েছেন ২ লাখ চালক। নানাবিধ কারণে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) বলছে শতকরায় ৯০ ভাগ দুর্ঘটনা ঘটে চালককে বেপরোয়া মনোভাব ও দ্রুতগতির কারণে। এছাড়াও আরো কিছু কারণ হচ্ছে ত্রুটিপূর্ণ আঁকাবাঁকা অপ্রশস্ত রাস্তাঘাট, ক্রুটিপূর্ণ গাড়ি রাস্তায় নামানো, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, ট্রাফিক নিয়মকানুন মেনে না চলা, লাইসেন্সের কারচুপি, ফোনে কথা বলতে বলতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেক, পথচারী সেতু ব্যবহার না করা।

২০১৭ সালে ‘ নিরাপদ সড়ক দিবস ‘ ঘোষণা করা হয়। এতেও থামেনি দেশের সড়ক – মহাসড়কের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর মিছিল। নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণার পর ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে নামে সাধারণ মানুষের আন্দোলন। উক্ত বছরেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঁচ দফার একটি নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলো হলো – বাসযাত্রায় বিকল্প চালক রাখা, পাঁচ ঘণ্টা পরপর চালক পরিবর্তন করা, চালক ও সহযোগীদের প্রশিক্ষণ, চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট রাখা এবং মহাসড়কের পাশে চালকের জন্য বিশ্রামাগার রাখা। তবে এতেও বন্ধ হয়নি সড়ক দুর্ঘটনা, মানুষের আহাজারি, সড়কের সু-শৃঙ্খল ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৫-২০২১ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ৩৭ হাজার ৪২২ টি যেখানে নিহত হয়েছেন ৫১ হাজার ৬৬৫ জন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৩৯৭ জন।এর মাঝে ২০১৫ সালে ৬ হাজার ৫৮১ টি সড়ক দুর্ঘটনা, ৮ হাজার ৬৪২ জন নিহত এবং ২১ হাজার ৮৫৫ জন আহত হয়েছেন।সাল ২০২১ দুর্ঘটনা ৫ হাজার ৬২৯, নিহত ৭ হাজার ৮০৯ এবং ৯ হাজার ৩৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গত ৯ বছরে অর্থাৎ ২০২২ সালে সবোর্চ্চ সড়ক দুর্ঘটনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন যাত্রী কল্যাণ সমিতি। যেখানে ৬ হাজার ৭৪৯ টি সড়ক দুর্ঘটনা, নিহত হয়েছেন ৯ হাজার ৯৫১ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৩৫৬ জন।

২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ ও প্রাণহানি ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেড়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯০ জন চালক,১ হাজার ৫০৩ জন পথচারী, ১ হাজার ১৫০ জন নারী, ৮৮৫ জন শিক্ষার্থী,৭৯৪ জন শিশু, ৭৪২ জন পরিবহন শ্রমিক, ২৮৩ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য,১৬৮ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী,১৩২ জন শিক্ষক, ৪৪ জন সাংবাদিক,৩১ জন চিকিৎসক, ২৯ জন প্রকৌশলী,১৮ জন মুক্তিযোদ্ধা,৯ জন আইনজীবী ও ৫ জন শিল্পী ছিলেন।

এ সময়ের দুর্ঘটনায় মোট ৯ হাজার ৬১৬টি যানবাহনের কথা জানা যায়, যেখানে ১৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ বাস,২৪ দশমিক ৫০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লবি, ৬ দশমিক ৯৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস,৬ দশমিক ২২ শতাংশ সিএনজি চালিত অটোরিকশা,২৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ মোটরসাইকেল,১১ দশমিক ৪২ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক,৮ দশমিক ৩২ শতাংশ নছিমন – করিমন- মাহিন্দ্রা – ট্রাক্টর ও লেগুনা সড়ক দুর্ঘটনায় কবে পড়েছে।

আবার মোট দুর্ঘটনার ৫২ দশমিক ৫৫ শতাংশ পথচারী গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা,২১ দশমিক ৬১ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ,১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে,৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ বিবিধ কারণে,০ দশমিক ৪০ শতাংশ যানবাহনের চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৯৯ শতাংশ ট্রেন-যানবাহন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারকে হতে হবে সচেষ্ট এবং দেশের জনগণকে হতে হবে সচেতন।সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নিচের পদক্ষেপ গুলো নেওয়া যেতে পারে।
১. ট্রাফিক আইনকে কার্যকর করা, ঘুষমুক্ত রাখা ও চালকদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান থাকা।
২. ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে।
৩. দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. শহরে জেব্রা ক্রসিং এর ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
৬. অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল বোঝাই বন্ধ করতে হবে।
৭. রাস্তার চাপ কমাতে নদী ও রেলপথকে সক্রিয় করতে হবে।
৮. রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশ ও পুলিশ প্রশাসনের দুনীর্তি বন্ধ করতে হবে।
৯. লাইসেন্স ও ক্রুটিপূর্ণ গাড়ির চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে।
১০. ক্রুটিপূর্ণ রাস্তা চিহ্নিত করে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্ৰহণ করতে হবে।

উপরোক্ত পদক্ষেপগুলো গ্ৰহণ করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে হ্রাস পাবে। অতত্রব উক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকর করার জন্য কতৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

শেয়ার করুন :

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

© All rights reserved ©

2023 Barta Bazar Online